ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় ভুয়া নথিপত্রে উত্তোলন করা অর্থ অবশেষে ফেরত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 9, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

নওগাঁর মহাদেবপুরে ভুয়া নথিপত্র তৈরির মাধ্যমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মহাদেবপুর শাখার ম্যানেজার ফরিদ আহম্মেদের যোগসাজসে উপজেলার চাঁন্দাশ ইউনিয়নের গুড়হাড়িয়া পীরপাল ওয়াক্ফ এস্টেটের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তোলন করা অর্থ অবশেষে ফেরত দিয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। কিন্তু প্রভাবশালী এই চক্রের সদস্যদের লাগাম টেনে ধরতে সংশ্লিষ্টদের দৃশ্যমান তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এখনও কোনোই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও এই সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে ভয়-ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন ফৌজদারি অপরাধ। সংক্ষুব্ধ পক্ষ চাইলে প্রতিকারের জন্য প্রচলিত আইনে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, এ ব্যাপারে মামালা দায়ের করবেন তারা। আর জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।

গত ২৮ আগস্ট প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় ‘প্রভাবশালীদের পকেটে ওয়াক্ফ এস্টেটের অর্থ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বানোয়াট নথিপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেহাত হয়ে যাওয়া ছয়লাখ টাকা ফেরত এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পদাধিকার বলে ওই ওয়াক্ফ এস্টেটের সভাপতি বা মোতাওয়াল্লি মো. আরিফুজ্জামান।

সবশেষ গত তিন সেপ্টেম্বর তিনলাখ টাকা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মহাদেবপুর শাখার নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা দেন গুড়হাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা। এরআগে গত ২৪ আগস্ট আরও তিনলাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয় তারা। অবৈধভাবে চক্রের সদস্যদের হেফাজতে থাকা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ উদ্ধার করেন ইউএনও।

গুড়হাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তৎপরতায় বেহাত হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত এসেছে। সরকারি নিয়ম-নীতি মেনে গ্রামের জরাজীর্ণ মসজিদ ও কবরস্থানের উন্নয়ন এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য এসব অর্থ কাজে লাগানোর ব্যাপারে এস্টেটের সভাপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সাংবাদিক সাইফুর রহমান সনি জানান, এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ২৬ আগস্ট সকালে রাস্তা থেকে মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট তার অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে নানা ভয়-ভীতি দেখান। যা দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধ ও একেবারেই অনৈতিক। সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট।

জানতে চাইলে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক নওগাঁ জোনের ডিজিএম রুহুল আমিন জানান, জাল নথিপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ ছাড় করার সুযোগ নেই। মহাদেবপুর শাখায় গিয়ে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেবেন বলে দাবি তার।

গুড়হাড়িয়া ওয়াক্ফ এস্টেটের সভাপতি ও ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সভাপতি পদে থাকার বিষয়টি জানতেন না। ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে ছয়লাখ টাকা উত্তোলনের খবর পেয়ে ব্যাংক থেকে নথিপত্র ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এরপর জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে উত্তোলনকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিলে গত ২৪ আগস্ট তিনলাখ এবং তিন সেপ্টেম্বর বাকি তিনলাখ টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে। আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করছেন। জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলেও জানান তিনি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স