ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ন্যানো বানানায় রেট্রো শাড়ি, ট্রেন্ড নাকি ক্ল্যাসিকে ফেরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 18, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নিজের ছবি সম্পাদনা করে ট্রেন্ডে গা ভাসানো কি শেষ? নাকি এখনো ভাবনা-চিন্তার পর্যায়ে আছে? যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, গত কয়েক সপ্তাহের পর্যালোচনায় সামাজিক মাধ্যমের ট্রেন্ড এড়িয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা খুব কমই দেখা গেছে। 

এখানেই প্রশ্ন জাগছে, একেক সময় একেক ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে কী লাভ হয়? এর মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক ভাবমূর্তি কিংবা অর্থনৈতিক প্রভাব আছে কি? 

বর্তমান ট্রেন্ড সম্পর্কে যদি এখনো বিস্তারিত না জেনে থাকেন তাহলে আপনার জন্য বলে রাখা ভালো- গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এআই দিয়ে নিজের ছবি এডিট করে শেয়ার করছেন অনেকে। এসব পোস্টের হ্যাশট্যাগে লেখা হচ্ছে ‘ন্যানো বানানা’, ‘রেট্রো শাড়ি’, ‘থ্রিডি ফিগার’ কিংবা ‘প্রফেশনাল হেডশট’। ছবিগুলো সম্পাদনা করা হচ্ছে গুগলের জেমিনি এআইয়ের ন্যানো বানানা ফিচার দিয়ে।

কেন নতুন ট্রেন্ড তৈরি হচ্ছে
মানুষের সহজাত একটি প্রবৃত্তি হলো অনুসরণ ও অনুকরণ করা। সেই পালে নতুন করে হাওয়া দিচ্ছে এআইভিত্তিক কিছু সাইট ও প্ল্যাটফর্ম। এতে নতুন সংযোজন জেমিনির ছবি সম্পাদনার ফিচারটি। এই ফিচারের মাধ্যমে সাধারণ ছবি মুহূর্তেই বদলে যাচ্ছে রেট্রো শাড়ি, ৮০ এর দশকের নায়িকাদের লুক, থ্রিডি ফিগার কিংবা প্রফেশনাল হেডশটে। 

ঢাকার তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের ইনফ্লুয়েন্সার, সিলেটের শিক্ষার্থী—সবাই নিজের ছবি সম্পাদনা করে দেখার চেষ্টা করছেন কেমন লাগে এই নতুন ডিজিটাল সাজ।

আগস্টের শেষ দিকে গুগল তাদের জেমিনি অ্যাপে এই ফিচার চালু করে। এরপর থেকেই বিভিন্ন দেশে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজরে আসে ফিচারটি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশেও ঢেউ তুলেছে। একেকজন এআই দিয়ে সম্পাদিত ছবি দিয়ে নিজের প্রোফাইলে বদলাচ্ছেন, স্টোরিতে দিচ্ছেন। 

সামাজিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ ট্রেন্ড ফলো করে মূলত তিন কারণে। প্রথমত, অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি। অর্থ্যাৎ, সবাই করছে, তাই আমিও করব। দ্বিতীয়ত, সৃজনশীলতা ও আত্মপ্রকাশ। বাস্তবে সম্ভব নয় এমন সাজ বা পরিবেশেও নিজেকে দেখতে চায় মানুষ। এবং তৃতীয়ত, কৌতূহল ও মজা। নতুন কিছু এলে সেটি ট্রাই করতেই হবে—এটিই যেন ডিজিটাল যুগের সহজাত প্রবণতা।

এর সঙ্গে আছে ফিয়ার অব মিসিং আউট বা ফোমো। যেটি দ্বারা বোঝায়- আমি কিছু মিস করে ফেললাম না তো। ফলে ইনফ্লুয়েন্সাররা কোনো কিছু করলে সাধারণ মানুষও তা থেকে নিজেকে পিছিয়ে রাখতে চান না। আর এই প্রবণতাই একেকটি নতুন নতুন ট্রেন্ডের জন্ম দিচ্ছে।

‘আমি নকল কিন্তু দেখতে ভালো’
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় স্বামী, সন্তান ও শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকেন নাহার দিলরুবা। সম্প্রতি ন্যানো বানানা দিয়ে নিজের ছবি সম্পাদনা করে ফেসবুকে আপলোড দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, যে ট্রেন্ড আগস্টের শেষে শুরু হয়েছে, সেটিতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে এসে গা ভাসানোর কারণ কী?

দিলরুবার উত্তর- ‘ফেসবুকে বন্ধু তালিকায় থাকা অধিকাংশ মানুষই নিজেদের এমন ছবি শেয়ার দিয়েছে। এটা দেখে আমারও ছবি এডিট করার ইচ্ছা হয়। জাস্ট কিউরিসিটি (কৌতুহল)।’


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স