ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এলপিজি: প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বাড়ছে চাহিদা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

জ্বালানি ডেস্ক:

দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশে গৃহস্থালিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় মানুষ ধীরে ধীরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দিকে ঝুঁকছে। গ্রামে-গঞ্জেও মাটির চুলার পরিবর্তে রান্নাবান্নায় এলপিজি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

শিল্প ও পরিবহন খাতে এলপিজির ব্যবহার

চাহিদার তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্প-কারখানায় ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে অনেক শিল্পোদ্যোক্তা উৎপাদন চালিয়ে রাখার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছেন। এছাড়া গাড়িতে পেট্রল বা অকটেনচালিত যানবাহনকে এলপিজিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। গ্যাসসংকটের কারণে দ্বৈতচালিত গাড়িতেও এলপিজি ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বর্তমানে এলপিজির ব্যবহার প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন বা ১৫ লাখ টনের ওপর। স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস ও বাসাবাড়িতে নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় এলপিজির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

ভবিষ্যতের চাহিদা

  • ২০৩০ সালে: ২.৫ মিলিয়ন টন

  • আগামী পাঁচ বছরে: ১০ লাখ টন বৃদ্ধি

  • ২০৪১ সালে: ৫ মিলিয়ন টন

  • ২০৫০ সালে: ১০ মিলিয়ন টন

প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি সহজভাবে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে, তবে খাতের প্রসার ও জনসাধারণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, দেশে প্রাইমারি এনার্জির ৬৫% আমদানিনির্ভর। স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে, তাই এলপিজি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এলপিজির ব্যবহার ছিল ৭ লাখ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে প্রায় ১৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, এলপিজির চাহিদার ৯৮% আসে বেসরকারি খাত থেকে, মাত্র ২% সরকার সরবরাহ করে। খাতে ৫৮টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র ২৭টি কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন এবং কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল মাওলা বলেন, সিএনজিতে গ্যাসসংকটের কারণে গাড়ি মালিকরা এলপিজি ব্যবহারে ঝুঁকছেন। নতুন আমদানিকৃত গাড়িগুলোও সরাসরি এলপিজিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

সরকারি উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দেশে বছরে প্রায় ১২ লাখ টন এলপিজি আমদানি করা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এ পরিমাণ ২৫ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এজন্য খাতে নতুন বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে সরবরাহ বাড়ালে সিলিন্ডার সমস্যার সমাধান হবে। তবে নিরাপত্তা বিধি মেনে রাজউকসহ অন্যান্য সংস্থার সম্পৃক্ততা জরুরি।

সূত্র: কালের কণ্ঠ


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স