ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় অর্থনীতি: বিনিয়োগ স্থবির, আইএমএফ কিস্তি ঝুলে আছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

অর্থনীতি ডেস্ক:

সময় যত যাচ্ছে, একটি নির্বাচিত সরকারের দাবি ততই জোরালো হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মহল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অপেক্ষায়। চলমান পরিস্থিতিতে নতুন উদ্যোগ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম প্রায় স্থবির

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়বে না। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বলছেন, ‘নির্বাচিত সরকার ছাড়া নতুন বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ’। ফলে অর্থনীতি এখন এক ধরনের “অপেক্ষার ঘূর্ণিতে” পড়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তাদের মতে, নির্বাচিত সরকার না থাকায় বিনিয়োগ স্থগিত এবং আইএমএফ কিস্তি ঝুলে আছে। আস্থা ফিরলেই পুঁজি, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি পুনরায় সচল হবে।

আইএমএফের শর্ত ও রাজনৈতিক আস্থা

২০২২ সালে বাংলাদেশ ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করেছে। এর মধ্যে পাঁচ কিস্তি ছাড় হলেও ষষ্ঠ কিস্তি এখন ঝুলে আছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের পরই বাকি অর্থছাড়ের সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি রাজনৈতিক আস্থা ও নীতির ধারাবাহিকতার প্রশ্ন।

রিয়েল এস্টেট খাতের শীর্ষ সংগঠন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূইয়া বলেন, ‘ম্যানুফ্যাকচারিং, রিয়েল এস্টেট, ব্যাংকিং ও সেবা খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ। নির্বাচিত সরকার ছাড়া দায়বদ্ধতা ও নীতির ধারাবাহিকতা অনিশ্চিত।’

বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রভাব

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ২২ শতাংশ কমেছে

  • নতুন প্রকল্প নিবন্ধনেও গতি নেই; অনেক বিনিয়োগকারী নতুন কারখানা না করে পুরনো ব্যবসা সংকুচিত করছেন।

  • ব্যাংক খাতে ঋণ চাহিদা কমেছে, নির্মাণসামগ্রী, ইলেকট্রনিকস ও রিয়েল এস্টেটে নতুন প্রকল্প স্থগিত।

  • অন্তত ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে

সরকারের ভূমিকা ও প্রস্তাবনা

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এই স্থবিরতা কেবল রাজনৈতিক নয়; সরকারের প্রস্তুতি ও নীতি পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাবও দায়ী। নতুন সরকার গঠনের পর আইএমএফের ঋণচুক্তি সচল হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে—ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ এবং রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা। তবে টেকসই স্থিতিশীলতার জন্য আরো কার্যকর নীতি প্রয়োজন।

উপসংহার:
নির্বাচিত সরকার ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই, ফলে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। আস্থা ফিরলেই অর্থনীতি সচল হবে, নতুন পুঁজি প্রবাহ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স