চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চাঁদা না দেওয়ার কারণে এক চিকিৎসককে সন্ত্রাসীরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত চিকিৎসকের একটি ভিডিও মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়—তার মুখ রক্তাক্ত এবং তিনি সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। ভিডিওটি ৩৬ সেকেন্ড দীর্ঘ হলেও, তা মুহূর্তের মধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
আহত চিকিৎসক ইকবাল হোসেন চট্টগ্রাম নগরের ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ভিডিওতে নিজেকে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন,
“আমি ডাক্তার ইকবাল। বাকলিয়ায় পুরাতন চারতলায় আছি। আমাকে… বিএনপির হারুন; ওদেরকে সন্ত্রাসীদেরকে টাকা দিই নাই বলে আমাকে মারছে, আমাকে মারার জন্য খুঁজতেছে। আমি লুকাই আছি একটা ঘরের মধ্যে। ৯৯৯-এ ফোন দিয়েছি, ২০-৩০ মিনিট হয়ে গেছে, ওরা আসতেছে না। আমার ভাগনে-ভাগনিকে নিয়ে গেছে। আমাকে বাঁচান ভাই।”
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পুলিশি তৎপরতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনার পেছনের কাহিনি
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল নুর বেগম জামে মসজিদের পাশে চিকিৎসক ইকবাল একটি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজটি নিয়মবহির্ভূতভাবে চলছিল। এই ইস্যুতে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওসি দাবি করেন, বিএনপি নেতা জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তবে তিনি স্বীকার করেন, চিকিৎসক ইকবালকে মারধর করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে।
চিকিৎসক ইকবাল অবশ্য পুলিশের এই বক্তব্যকে আংশিক সত্য বলে মনে করছেন না। তার দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং চাঁদা দাবির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুন ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় এই হামলার শিকার হন।
উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত
পুলিশ জানিয়েছে, ৯৯৯ থেকে কল পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে যায় এবং চিকিৎসককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে চিকিৎসকের ভাগনে-ভাগনির বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কোনো মন্তব্য করেনি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হয়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাকলিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি দীর্ঘদিনের সমস্যা। নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।
বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রাম নগরের বেশ কিছু এলাকায় অবৈধ চাঁদা দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং নির্মাণ প্রকল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। রাজনৈতিক পরিচয়ধারী প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও প্রমাণের অভাবে অনেক সময় মামলা বা অভিযোগ নিষ্পত্তি হয় না। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় সংবাদদাতা, ফেসবুক ভিডিও, পুলিশি বিবৃতি।
daliykalerbangladesh