
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে এখনও ছাত্রদল প্যানেল দিতে পারেনি। ছাত্রত্ব না থাকায় শীর্ষ নেতারা নির্বাচনের সুযোগ হারিয়েছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো তেমন বড় নাম নেই।
তবে সম্প্রতি কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্যানেল ঘোষণায় দেরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় গত বুধবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্যানেল ঠিক করতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসে রাতভর আলোচনা শেষে শীর্ষ পদে একাধিক নামসহ খসড়া তালিকা করা হয়।
সূত্র জানায়, এ তালিকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তিনি অনুমোদন দেওয়ার পর নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণা করা হবে।
এ ব্যাপারে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘প্যানেল নিয়ে আমাদের কাজ প্রায় চূড়ান্ত। একটি খসড়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছি।’
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর হতে যাওয়া জাকসু নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। আজ সোমবার খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) প্যানেল ঘোষণা করেছে।
কমিটির দ্বন্দ্বে আটকা প্যানেল
গত ৮ আগস্ট শাখা ছাত্রদলের ৩৭০ সদস্যের বর্ধিত এবং ১৭ আবাসিক হল ও একটি অনুষদে ৮৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে ত্যাগীরা মূল্যায়ন পাননি। বিপরীতে হত্যা মামলার আসামি থেকে চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্ত বিশেষ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা পদ পেয়েছেন। কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করেন। পরে ১১ আগস্ট ১৩ নেতাকে শোকজ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
ছাত্রদল সূত্র জানায়, কমিটি ঘোষণার পর বিক্ষুব্ধদের তোপের মুখে টানা ৯ দিন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ শীর্ষ নেতাদের ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব মেটাতে ১৭ আগস্ট ক্যাম্পাসে আসেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ও সহসভাপতি আবু আফসান ইয়াহিয়া। তাদের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারাও আছেন– এমন খবরে পদবঞ্চিতরা ক্যাফেটেরিয়ায় যান। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দু’পক্ষের হাতাহাতি হয়, যা প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে শান্ত হয়।
পরের দিন রাতে আবারও হাতাহাতিতে জড়ায় দু’পক্ষ। বিতর্কিত কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিককে আধা ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন বিক্ষুব্ধরা। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর দু’পক্ষ তৃতীয় দফায় হাতাহাতিতে জড়ালে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল ইসলাম নিবৃত্ত করেন। তিনি দু’পক্ষকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেও বিক্ষুব্ধরা রাজি হয়নি।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় সংগঠনের ডাকে ১৯ আগস্ট ঢাকায় বৈঠকে বসে দু’পক্ষ। সেখানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জাকসু নির্বাচন উপলক্ষে বিক্ষুব্ধদের আন্দোলন বন্ধের নির্দেশনা দেন। সবাইকে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করার অনুরোধ জানান। নির্বাচন শেষ হলে বর্তমান কমিটির অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাসও দেন তারা।
এ ব্যাপারে বিক্ষুব্ধদের অন্যতম শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান মিল্টন বলেন, ‘কেন্দ্রের অনুরোধে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কমিটি বাতিল করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন কাঁধে কাঁধে রেখে নির্বাচনের কাজ করছি।’
তালিকায় যারা
শাখা ছাত্রদল সূত্র জানায়, তারেক রহমানের কাছে পাঠানো খসড়া তালিকায় জাকসুর শীর্ষ পদে একাধিক নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ভিপি পদে শেখ সাদি ও আবদুল গাফফার জিসান, জিএস পদে তানজিলা হোসেন বৈশাখী, এজিএস (ছাত্র) পদে রুবেল হোসেন, মেহেদী ইমন, হামিদুল্লাহ সালমান এবং এজিএস (ছাত্রী) পদে মীর্জা সাকি ও সৈয়দা অনন্যা ফারিয়ার নাম রয়েছে। নিয়মিত শিক্ষার্থী হলেও তারা ক্যাম্পাসে তেমন পরিচিত নয় বলে সূত্রের দাবি।
ছাত্রদলের প্যানেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান এবং গত বছরের ৫ আগস্টের আগে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘শীর্ষ পদে একাধিক নাম আলোচনায় আছে। প্রাধান্য পেয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা ও অভ্যুত্থানের আগে সংগঠনে সক্রিয়রা। আশা করছি, শিগগির আমরা প্যানেল দিতে পারব।’