
একটি আসন বাড়ানোয় শুনানিতে গাজীপুরবাসীর অভিনন্দন আর কৃতজ্ঞতায় সিক্ত নির্বাচন কমিশন।
আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে ঢাকা অঞ্চলের শুনানি চলছে। এতে গাজীপুরের প্রতিনিধিরা দাবি-আপত্তির শুনানিতে এসে ছোটখাটো অভিযোগ থাকলেও তা উপেক্ষা করে ইসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ সঞ্চালনা করছেন শুনানি।
শুনানিতে বিএনপি নেতা একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল গাজীপুরে আসন বাড়ানোর। সিইসি ও অন্য যে নির্বাচন কমিশনার বর্তমানে রয়েছেন, তারা অতীতের যে কোনো সময়ে চেয়ে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় এক নম্বরে রয়েছেন।...বেশি প্রশংসা করবো না। আপনারা গাজীপুরবাসীর প্রতি যে বদান্যতা দেখিয়েছেন তাতে আমরা কৃতজ্ঞ, আপনারা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের পাশে থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। যেকোনো আন্দোলন, সংগ্রাম বলেন ন্যায় সঙ্গত বিষয়ে সাড়া দেবো। অধিকার আদায়ে ইসিকে সহায়তা করবো।’
কৃতজ্ঞতার জবাবে শুনানি শেষে মঞ্চ থেকে ইসি সচিব বলেন, ‘আপনারা এসেছেন, এতেই আমরা ধন্য।’
গত ৩০ জুলাই ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে বাগেরহাটের আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করা হয়। আর গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে করা হয় ছয়টি।
বাগেরহাটবাসী আসন কমানোর ইসির কঠোর সমালোচনা করলেও উল্টোচিত্র গাজীপুরবাসীর।
শুনানি থেকে বেরিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন আজকের শুনানিতে বিভিন্ন আসনে থানা, ওয়ার্ড সংযোজনের দাবি দাবি জানিয়েছেন। বাকি সবাই ইসির পক্ষে ছিলাম। আসন বাড়ানোয় আমরা কমিশনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘এবার গাজীপুরে ৫টি থেকে ৬টি আসন করেছে; আমরা ইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছি, কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। আমাদের ছোটখাটো কিছু দাবি ছিল, অত্যন্ত শালীনতার সাথে তা তুলে ধরা হয়েছে। দুয়েকটি বিষয়ে ইসি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা আমরা মেনে নেবো।’
এবার ৮৩টি সংসদীয় এলাকার সীমানা নিয়ে এক হাজার ৭৬০টি আপত্তি-পরামর্শের আবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা হয়। ২৪-২৭ অগাস্ট শুনানি শেষে এসব আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি।