
তিন দফা দাবি নিয়ে আলোচনা করতে কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেখা পাননি আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারা। ফলে দাবি-দাওয়ার স্মারকলিপি দিয়েই সেখান থেকে ফিরে এসেছেন তারা। একইসঙ্গে তাদের নামের তালিকা জমা দিয়ে এসেছেন। এছাড়া দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ফিরে আসেন প্রাথমিকের শিক্ষক নেতারা।
প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যাওয়া ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ সমকালকে বলেন, আমাদের সেখানে (প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ব্যস্ত আছেন। আমাদের শিক্ষক নেতাদের তালিকা জমা দিয়ে এসেছি।
পরবর্তীতে সুযোগ হলে আমাদের জানানো হবে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছি। সেই স্মারকলিপি জমা দিয়ে এসেছি। আমরা চাই, প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে দাবিগুলো পূরণে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ‘ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে এ ঘোষণা দেন নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মুনির হোসেন।
বক্তারা জানান, ২০০৬ সাল পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে চাকরি করলেও পরবর্তী সময়ে তিন ধাপ বেতন বৈষম্য তৈরি হয়। ২০২০ সালে সহকারীদের ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে অবস্থান করছেন, ফলে তিন ধাপ বৈষম্য রয়ে গেছে। এ অবস্থা সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
তিন দফা দাবি
১. সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রিপদে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করতে হবে; ২. প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদসমূহ ১০০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে; ৩. ১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানে উন্নীত স্কেলকে উচ্চতর গ্রেড হিসেবে গণ্য না করে প্রকৃত উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ায় সহকারী শিক্ষক ও চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে পাঠদানের প্রতি অনিহা তৈরি হচ্ছে।
সমাবেশে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সিনেট সদস্য এবিএম ফজলুল করিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইলিয়াছ হোসেন এবং শপথ বাক্য পাঠ করান আনিসুর রহমান। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ছিলেন শাহিনুর আল আমিন, তপন মন্ডল, শাহিনুর আক্তার, শামসুদ্দিন মাসুদ, আমিনুল হক, সাবেরা বেগম, রবিউল হাসান, রাসেল কবির, অজিত পাল, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা সহকারী শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং তা বাস্তবায়িত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন।