
স্টাফ রিপোর্টার: কথায় বলে, ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’। রাজনৈতিক দলের চতুর নেতাদের অবস্থাও সেই ঢেঁকির মতো। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেনো, তাদের কিছু অসাধু নেতাদের টাকার লোভ দেখিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে স্থানীয় কিছু অসাধু লোককে হাত করে তারা তাদের অপকর্মও সব সরকারের সময়ই করে যায়। অর্থাৎ, টাকার জোরে তারা সব সরকারের সময়ই তাদের অনৈতিক কাজ চালু রাখে।
বন্দর উপজেলায় এক সময়ের ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহচর, স্থানীয় আওয়ামী ক্যাডারদের সহযোগিতায় ফুলে-ফেঁপে ওঠে বিশাল সম্রাজ্যের মালিক চাঁনমিয়া ওরফে টাওয়ার চাঁনমিয়া এখনও আছেন সেই ফ্যাসিস্টকালীন দাপটে। কোন অনুমোদন না পাওয়া সত্ত্বেও সরকারি প্রতিষ্ঠান BIWTA-এর থেকে অনুমোদনের ভূয়া নোটিশবোর্ড টাঙিয়ে BIWTA-এর জমির উপর নির্মাণ করছেন ভবন। BIWTA ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে বাধা আসা সত্ত্বেও দিনের বেলায় না করে প্রতিদিন রাতের বেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এসব দখল বাণিজ্যের কাজ। আর এসব কাজে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাসহ স্থানীয় কিছু অর্থলোভী ব্যক্তি।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের (১নং খেয়াঘাট) শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাশে সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চাঁনমিয়া টাওয়ারের পশ্চিম পাশের খালি জায়গায় বেজ ও শটং পিলার ঢালাই করার মাধ্যমে ভিটি পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ সেরে ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সে সময় দিনের বেলা কাজ করা হচ্ছে না। স্থানীয়রা জানায়, এখানে কাজ করা হয় রাতের বেলায়। সেখানে একটি খুঁটির মধ্যে ঝুলছে একটি নোটিশবোর্ড।
নোটিশবোর্ডে লেখা আছে, “বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ শিরোনাম দিয়ে জমির অবস্থান উল্লেখ করে জানানো যাচ্ছে যে, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলাধীন গঙ্গাকুল ‘ম’ খন্ড মৌজায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে এস.এ-১৪৩, এস ২৬৮ ও ৮০১ দাগে জে.এল নং-৫৬ নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণ করার জন্য অনাপত্তি প্রদানের জন্য অংশ-২ (ফরম-১০২) (বিধি-৬ দ্রষ্টব্য) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগর পরিকল্পনা শাখা রাজউক ভবন ঢাকা-১০০০ কর্তৃক ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের অনুমোদনসহ হাজী মো. চাঁন মিয়াকে ২১.৩৪ শতাংশ (কম/বেশি) দোকান নির্মাণের বিষয়ে নির্দেশক্রমে BIWTA কর্তৃক অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হলো।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সাইনবোর্ড যদি সত্যি হয়, তাহলে এখানে এসে উপজেলা প্রশাসন ও BIWTA-কে বাধা প্রদান করতে দেখেছেন। এর আগে দিনে কাজ করা হলেও এসব বাধার পর এখন রাতের বেলায় কাজ হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, চাঁনমিয়া এর আগে ওসমান পরিবারের সদস্য নাসিম ওসমান (প্রয়াত) সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময় তার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর সাবেক এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গে সখ্যতা করে স্থানীয় বড় প্রকল্পগুলো হাতিয়ে নিয়ে এবং ওসমান পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভূমি দস্যুতার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ব্যবহার করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের। স্থানীয়দের মতে, সেলিম ওসমানের মেয়াদের শেষকালীন সময়ে তার যেকোন অনুষ্ঠানেই চাঁনমিয়ার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এরপর থেকে স্থানীয় লোকেরা তাকে ভূমিদস্যু চাঁনমিয়া বা টাওয়ার চাঁনমিয়া নামে চেনে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এর আগে আমি বিষয়টি জানার পর আমরা তাদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং আমরা জানি সেখানকার কাজ এখন বন্ধ আছে। আমরা অনুমোদন ছাড়া কোনো কাজ না করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে যেহেতু এখনও তারা তাদের কাজ চালাচ্ছে, তাই বিষয়টি নিয়ে আমি BIWTA-এর সঙ্গে কথা বলব।”
নারায়ণগঞ্জ BIWTA-এর সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান বলেন, “এখানে ভবন বা দোকান নির্মাণের জন্য তাদের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আমরা খুব শীঘ্রই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাবো। তারা এখানে কাজ করলেও কিছু করতে পারবে না। কারণ আমরা খুব শীঘ্রই এই অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে অভিযান নামাব। আমি বিষয়টি শুনেছি এবং সরেজমিনে গিয়ে উচ্ছেদ করব।”