প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 9, 2025 ইং
‘কেনা ফ্ল্যাট’ দখলে নেওয়ায় মামলা হয় কীভাবে

প্রায় ২০ বছর আগে ‘কেনা ফ্ল্যাট’ নিজেদের দখলে নেওয়ায় কীভাবে মামলা হয়- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সামির কাদের চৌধুরী।
ফারজানা আন্না ইসলাম নামে এক নারীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্ন তোলেন সামির। এ সময় সামির কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই সাকির কাদের চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
সামির কাদের বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে ২০০৫ সালে আমরা ফ্ল্যাটটি ডেভেলপার কোম্পানি (সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেড) থেকে কিনেছি। তখন বাড়িটির নাম ছিল ওয়াটার ফ্রন্ট। এখন (নাম) পরিবর্তন করে ফেলেছে। উনার (ফারজানা আন্না ইসলাম) কাছে থাকা কাগজপত্র যে বানোয়াট, ২০ বছর ধরে এগুলো উনি খেয়াল করেননি। এখন উনার খেয়ালে আসছে। আর খেয়ালে আসার পরে উনি ভবনের ভেতরে, আর আমরা বাইরে আছি। খুবই দুঃখজনক।’
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ এনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী, ‘সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের’ স্বত্বাধিকারী আরেফিন সামসুল আলম, মেরিনা ইরশাদ, কেশব চন্দ্র নাথ, হারুন অর রশীদ, ফেরদৌস মুনসি, শাহাবুদ্দিন ও ছালাউদ্দিন আব্বাছিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ছয়তলা ভবন নির্মাণে আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি চুক্তি করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মাইনুল ইসলাম মারা যান। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।
সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সামির কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা যদি একটু বিল্ডিংয়ে জাস্ট গেটের সামনে দিয়ে ঘুরে যান, তাহলে দেখবেন কী পরিস্থিতি সেখানে। চারপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন এই মহিলার (ফারজানা আন্না ইসলাম) সম্পর্কে। ওখানে আশপাশে ভবন আছে, ব্যাংক আছে। আপনারা সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে, এই ভবনে স্পা আছে, কফি হাউস আছে, সেখানে কী চলে না চলে। গত সপ্তাহে আমাদের গার্ডরা যখন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, আমাদের ফ্ল্যাটে রিনোভেশনের কাজ চলছিল, মালামাল আসছিল, ওই সময় উনি ও উনার ছেলেরা উপর থেকে বলতেছে যে, এখান থেকে সরে যা, নইলে গরম তেল দিয়ে জানে মেরে ফেলব। এই ভিডিওটা আমাদের কাছে আছে। এখন থ্রেট আমরা কোথায় দিলাম, উনি কোথায় দিল, এটা প্রমাণ হোক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই, আর আমরা আমাদের ফ্ল্যাটে এই মুহূর্তে ঢুকতে চাই। এটা তো আমাদের প্রোপার্টি, আমরা আমাদের প্রপোর্টিতে কেন ঢুকতে পারব না? আমরা বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি, থানায় অবহিত করা আছে। আমি শিগগিরই আমাদের প্রপোর্টিতে গিয়ে আমাদের ফ্ল্যাটের রিনোভেশনের কাজ চালু করতে চাচ্ছি।’
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ dailykalerbangladesh