
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্তব্ধ হয়ে থাকা বগুড়ার ক্রীড়াঙ্গন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে মাত্র সাত মাসে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে ১০টি ট্রফি জয় করে ক্রীড়াবিদরা ফিরিয়ে এনেছেন জেলার গৌরব। এ সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষে চালু হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা জেলা সুইমিংপুলও।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার (ডিএসএ) আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজাকে আহ্বায়ক এবং জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তোছাদ্দেক হোসেনকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক খাজা আবু হায়াত হিরু, সাবেক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার খালেদ মাহমুদ রুবেল, ক্রীড়া সংগঠক হাসান আলী আলাল, ক্রীড়া সাংবাদিক মোস্তফা মোঘল এবং ছাত্র প্রতিনিধি হাসান মোল্লা।
প্রথম চ্যালেঞ্জ: সুইমিংপুল সংস্কার
দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই পরিত্যক্ত জেলা সুইমিংপুল সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয় কমিটি। আহ্বায়ক হোসনা আফরোজার উদ্যোগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই উদ্বোধনের মাধ্যমে সাঁতারুদের জন্য এটি খুলে দেওয়া হবে।
টুর্নামেন্টের ধারাবাহিক সাফল্য
ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট—এই সাত মাসে বগুড়ার খেলোয়াড়রা ক্রিকেট, কাবাডি, ফুটবল ও ভলিবলে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে ১০টি ট্রফি জয় করেছে। এর মধ্যে কাবাডিতেই সর্বাধিক পাঁচটি ট্রফি এসেছে। অনূর্ধ্ব-১৮ কাবাডিতে জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হয়েছে বালক দল, বিভাগীয় পর্যায়ে বালক দল চ্যাম্পিয়ন এবং বালিকা দল রানার্সআপ হয়। এছাড়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে বগুড়া জেলা পুরুষ ও নারী দল বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়।
ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দল রাজশাহী বিভাগীয় শিরোপা জিতেছে এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিসিবির টায়ার-১ এ উন্নীত হয়েছে। ভলিবলে রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হয়েছে বগুড়ার ছেলে দল। ফুটবলে অনূর্ধ্ব-১৫ দল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়।
জাতীয় দলে বগুড়ার অবদান
শুধু শিরোপা জয় নয়, জাতীয় দলের পাইপলাইনেও খেলোয়াড় সরবরাহ করছে বগুড়া। জাতীয় ক্রিকেট দলে বর্তমানে মুশফিকুর রহীম, তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহিদ হৃদয় খেলছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পেয়েছেন ইলমান হাবিব, অনূর্ধ্ব-১৭ দলে তাওফিক শামস ও আকাশ রায়, অনূর্ধ্ব-১৫ দলে ইরফান, বায়জীদ ও আফ্রিদি। নারী জাতীয় ক্রিকেট দলে রয়েছেন রিতুন মণি ও শারমিন সুলতানা।
আগামী পরিকল্পনা
ডিএসএ সদস্য খালেদ মাহমুদ রুবেল জানান, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সব ইভেন্ট সচল রাখতে কাজ চলছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠে খেলা চালু রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সুপার কাপ কাবাডি টুর্নামেন্ট, ভলিবল টুর্নামেন্ট এবং ‘ইমার্জিং কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার ও কাবাডি খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ক্রীড়া সাংবাদিক মোস্তফা মোঘল বলেন, “শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজন নয়, স্টেডিয়াম ও সুইমিংপুল সংস্কারেও কমিটি শুরু থেকেই সক্রিয়। শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিসিবি জানিয়েছে, এনসিএল টি-টোয়েন্টির আগেই গ্যালারি ও অন্যান্য অংশের সংস্কার শেষ হবে।”
সবার সহযোগিতায় বগুড়ার ক্রীড়াঙ্গন এখন ধীরে ধীরে পুরনো গৌরবে ফিরছে।