ঢাকা | বঙ্গাব্দ

“সতর্কবার্তা: আর ২ দিন! টাইফয়েড টিকার রেজিস্ট্রেশন শেষ ৩১ আগস্ট, ক্যাম্পেইন শুরু ১২ অক্টোবর”

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 29, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
ঢাকা: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো সারাদেশে জাতীয় পর্যায়ে শুরু হতে যাচ্ছে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) টিকাদান কর্মসূচি। সরকারের লক্ষ্য—প্রায় ৫ কোটি শিশু-কিশোরকে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ জনস্বাস্থ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

রেজিস্ট্রেশন—এখনও সময় আছে

জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে। শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের জন্মনিবন্ধন নম্বর অথবা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভিভাবকের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে একটি ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করতে হবে, যাতে টিকা নেওয়ার তারিখ ও কেন্দ্রের নাম উল্লেখ থাকে।

যদিও অনেকে ধারণা করেছিলেন রেজিস্ট্রেশন শেষ হয়ে গেছে, আসলে রেজিস্ট্রেশন চলবে ৩১ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত। আজ ২৯ আগস্ট হওয়ায় এখনও ২ দিন সময় বাকি আছে। তাই এখনো যারা নিবন্ধন করেননি, তারা দ্রুত আবেদন করতে পারবেন।

ক্যাম্পেইন কখন শুরু হবে?

প্রথমে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ক্যাম্পেইন শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর। তবে প্রস্তুতিজনিত কারণে সময়সূচি পিছিয়ে ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্পেইন চলবে ১৮ কর্মদিবস ধরে।

প্রথম ১০ কর্মদিবসে স্কুল ও মাদ্রাসাভিত্তিক ক্যাম্পের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে।

পরবর্তী ৮ কর্মদিবসে স্থানীয় EPI কেন্দ্রগুলোতে স্কুলবহির্ভূত শিশুদের টিকা দেওয়া হবে।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (DSCC) এলাকায় সময়সূচি আরও দীর্ঘ। এখানে ক্যাম্পেইন চলবে ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। প্রথম ধাপে (১২–৩১ অক্টোবর) স্কুলে টিকা দেওয়া হবে, আর দ্বিতীয় ধাপে (১–১৩ নভেম্বর) স্থায়ী ও অস্থায়ী বুথে স্কুলবহির্ভূত শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। DSCC একাই প্রায় ১০ লক্ষ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে।

কারা টিকা পাবে

কর্মসূচির আওতায় মূলত ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এক ডোজ TCV অন্তত ৩–৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করে। যেসব এলাকায় টাইফয়েড সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি, ভবিষ্যতে সেখানে ধাপে ধাপে প্রাপ্তবয়স্কদেরও টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন জরুরি এই টিকা

টাইফয়েড হলো ব্যাকটেরিয়াজনিত এক রোগ, যা সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। শহরাঞ্চলের ঘনবসতি, গ্রামীণ অঞ্চলে নিরাপদ পানির অভাব এবং স্যানিটেশন সমস্যার কারণে বাংলাদেশে এখনও রোগটির ঝুঁকি অনেক বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “টাইফয়েডে প্রতি বছর হাজারো শিশু ভোগে। একবার আক্রান্ত হলে পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এই টিকা শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করবে।”

সরকারি বার্তা

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, “টাইফয়েড প্রতিরোধে এই টিকা অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ। দেশের প্রতিটি শিশুকে আমরা টিকার আওতায় আনতে চাই। এজন্য অভিভাবকদের ৩১ আগস্টের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ে সন্তানদের টিকা দেওয়ার অনুরোধ করছি।”

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য পরিচিত। টাইফয়েড প্রতিরোধে এই জাতীয় উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

জনগণের সাড়া

ক্যাম্পেইন শুরুর আগে থেকেই নগর ও গ্রামে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ঢাকার এক অভিভাবক বলেন, “আমার মেয়েকে কয়েক মাস আগে টাইফয়েডে ভুগতে হয়েছে। এখন টিকা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি স্বস্তি পাচ্ছি।”

সারসংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো

রেজিস্ট্রেশন শুরু: ১ আগস্ট ২০২৫

রেজিস্ট্রেশন শেষ: ৩১ আগস্ট ২০২৫ (আজ ২৯ আগস্ট, আর ২ দিন বাকি)

ক্যাম্পেইন শুরু (সারা দেশ): ১২ অক্টোবর ২০২৫, মেয়াদ ১৮ কর্মদিবস

DSCC সময়সূচি: ১২ অক্টোবর – ১৩ নভেম্বর ২০২৫

নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স