বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে এই বিপুল জনসমাগমকে ঘিরে সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শিশু ও টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পহেলা বৈশাখের মতো ঘনবসতিপূর্ণ অনুষ্ঠানে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে শতাধিক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে—
- উচ্চ সংক্রমণ হার: কোনো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাহীন ব্যক্তি আক্রান্তের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি।
- টিকাদানে ঘাটতি: অনেক শিশু এখনও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে। দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়া শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
- লক্ষণহীন সংক্রমণ: অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের আগেই আক্রান্ত ব্যক্তি ভাইরাস ছড়াতে শুরু করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
হামের লক্ষণ
- তীব্র জ্বর ও শরীর ম্যাজম্যাজ করা
- নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া
- মুখ থেকে শুরু হয়ে শরীরে লালচে র্যাশ ছড়িয়ে পড়া
- কাশি বৃদ্ধি পাওয়া
প্রতিরোধে করণীয়
উৎসবের আনন্দ বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
- টিকা নিশ্চিত করা: শিশুদের হামের পূর্ণ ডোজ টিকা দেওয়া জরুরি।
- অসুস্থ হলে ভিড় এড়িয়ে চলা: জ্বর বা সর্দি থাকলে জনসমাগমে না যাওয়াই নিরাপদ।
- মাস্ক ব্যবহার: ভিড়ের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
- পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ: ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার ও পর্যাপ্ত পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম শুধু সাধারণ চর্মরোগ নয়; অবহেলা করলে এটি নিউমোনিয়া, অন্ধত্ব বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই উৎসবের পর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
উৎসবের আনন্দ যেন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি না হয়ে ওঠে—এ জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
daliykalerbangladesh