টানা ৪ দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢলের পানিতে মহারশি নদী ফুলে ফেঁপে উঠে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢলে সব নদীর পানি বেড়েছে। এরমধ্যে চেল্লাখালি ও মহারশি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। আজ বিকেলে মহারশি নদী ঝিনাইগাতী ব্রিজপাড় এলাকায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে এবং নালিতাবাড়ির চেল্লা নদী বাতকুচি স্টেশনে বিপৎসীমার ২ দশমিক ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে ঝিনাইগাতীর পাহাড়ি নদী, মহারশি ও সোমেশ্বরীতে পানি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে মহরশি নদীর পানি ঝিনাইগাতী বাজারের ব্রিজপাড় এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে যাচ্ছে। পানির তোড়ে খৈলাকুড়া এলাকায় নদীর বাঁধের একাংশ ভেঙে গেছে। ওই এলাকার মহিলা মাদরাসার পাশের এলাকা ভাঙতে শুরু করেছে নদী। অন্যদিকে বিকেলে চতল, বনগাওসহ কয়েক স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে কমপক্ষে ১৫/২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছে।
এদিকে নদীর পানি উপচে ঝিনাইগাতী বাজারে হাঁটু পরিমাণ পানি জমেছে। উপজেলা পরিষদ ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। যেকোনো সময় রাংটিয়া দক্ষিণপাড়া ও শালচূড়াতে পানি ঢুকতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
অন্যদিকে কাংশা ইউনিয়নের কারাগাঁও ও আয়নাপুর গ্রামে সোমেশ্বরী নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কারাগাঁও বটতলা সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর খালভাঙ্গা এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সেখানেও ১৫ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর রাসেল, উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদৎ হোসেন, ধানশাইল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবীর রাসেল জানান, মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে আরও আগে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, ঝিনাইগাতী মহারশি নদীর ব্রিজপাড় এলাকায় পানির তোড়ে আশির দশকে নির্মিত একটি সড়ক ভেঙে গেছে। ওই সড়কটি বাঁধ হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত উজানের ঢলের পানিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাময়িকভাবে তারা বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পানি চলে গেলে আগামীকাল সব কিছু স্বাভাবিক হবে।
daliykalerbangladesh