ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কলাগাছিয়ায় আওয়ামীলীগ নেতা বাদল এখনো অধরা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 14, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
স্টাফ রিপোর্টার: স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পরও নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে এখনো চলছে পূর্বের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবশিষ্ট প্রভাব। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য হাজী মফিজুল ইসলাম বাদল। তিনি এখনো সেই পুরনো ক্ষমতার বলয় ধরে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে রেখেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাজী মফিজুল ইসলাম বাদল প্রশাসনের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে ছিলেন। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া থেকে শুরু করে বিএনপির ওপর হামলা সবকিছুতেই তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল। এখনো তিনি ওসমান পরিবারের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এছাড়াও একটি পরিবারকে বাড়িঘর ভেঙে এবং পিটিয়ে এলাকার ছাড়া করেছিলেন।
 
স্থানীয় যুবকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসিনা সরকার চলে গেছে, কিন্তু তার সহযোগীরা এখনো আমাদের মাথার ওপর বসে আছে। বাদল এখনো মানুষকে ভয় দেখায় বলে ‘ওসমান পরিবারের লোক আমি’। প্রশাসনও কিছু বলে না। তেমনি তার কথা কাজে মিল পেয়েছেন স্থানীয়রা। ডেভিল হান্ট অভিযানে বন্দর থানার সাবেক সেকেন্ড অফিসার আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে গভীর রাতে ছোনখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে থানার ভিতরে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে আওয়ামীলীগ নেতা মফিজুল ইসলাম বাদলকে ছেড়ে দেয়া হয়। এই নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।    
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করে বাদল রাতের আঁধারে ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে তিনি বিএনপির কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হাসিনা সরকারের পতনের পরও দেশের অনেক এলাকায় আগের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা এখনো “অঘোষিত ক্ষমতা” চালাচ্ছে। কলাগাছিয়া ইউনিয়ন তার অন্যতম উদাহরণ, যেখানে হাজী মফিজুল ইসলাম বাদল এখনো ফ্যাসিস্ট শাসনের কাঠামো ধরে রেখেছেন।

এদিকে, বন্দর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আরও বিতর্ক রয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ প্রকাশ্যেই নির্বাচনে অংশ নেন, কিন্তু প্রকাশ্যে এমএ রশিদের পক্ষে নির্বাচন করলেও গোপনে তার প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী রাজাকার পুত্র মাকসুদ হোসেনের পক্ষে কাজ করছেন।

এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন যাতে এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রæত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাধীন রাজনৈতিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স