স্বাস্থ্য ডেস্ক | কালার বাংলাদেশ
তথ্যসূত্র: অধ্যাপক ডা. এস. এম. এ. এরফান
আজ আমরা কথা বলব পায়ুপথের একটি বেদনাদায়ক রোগ ‘পেরি-অ্যানাল অ্যাবসেস’ বা গোদ ফোড়া নিয়ে। এটি পায়ুপথের আশপাশে বা অভ্যন্তরে সৃষ্ট একটি মারাত্মক ব্যথাযুক্ত ফোড়া। হঠাৎ করেই পায়ুপথে তীব্র ব্যথা, জ্বর এবং শরীরের অস্বস্তি (ম্যালেইজ) দেখা দেয়। কিছু সময় পর আক্রান্ত স্থানে ফোলাভাব তৈরি হয়।
⚠️ লক্ষণসমূহ
পায়ুপথের চারপাশে বা ভেতরে তীব্র ব্যথা
আক্রান্ত স্থানে ফোলাভাব ও লালচে ভাব
জ্বর ও শরীরের দুর্বলতা
বসতে বা মলত্যাগ করতে কষ্ট হওয়া
🧫 চিকিৎসা পদ্ধতি
অধ্যাপক ডা. এস. এম. এ. এরফান জানান,
“এই ফোড়ার সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো অপারেশন। যেহেতু এটি পুঁজভর্তি একটি সংক্রমণ, তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফোড়াটি কেটে পুঁজ, পানি ও রস বের করে দিতে হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে রোগীর ব্যথা উপশম হয়।”
অপারেশনের পর নিয়মিত ড্রেসিং করতে হয় এবং গরম পানিতে বসে (সিটজ বাথ) পরিষ্কার রাখতে হয়। এতে ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং ব্যথা কমে।
🔄 ফিস্টুলায় রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি
প্রায় ৬০–৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ফোড়া পরবর্তীতে ফিস্টুলা-ইন-অ্যানোতে রূপ নেয়।
ডা. এরফান বলেন, “এই ফোড়াটি মূলত পায়ুপথের ভিতর থেকে আসে। বাইরের ফোড়া কেটে পুঁজ বের করলেও ভিতরের নালিটি (ট্র্যাক্ট) থেকে যায়। ফলে সেই পথ দিয়ে পরে পুঁজ বা রস বের হতে থাকে। তখন এটি দ্বিতীয়বার অপারেশন ছাড়া ভালো হয় না।”
🧬 অভ্যন্তরীণ ফোড়া (ইন্ট্রারেক্টাল অ্যাবসেস)
কখনো কখনো ফোড়াটি বাইরে ফুলে না, বরং পায়ুপথের ভিতরে (রেক্টামের মধ্যে) তৈরি হয়।
এ অবস্থায় ডাক্তার হাত দিয়ে পরীক্ষা করলেও ফোড়া ধরা পড়ে না, কিন্তু রোগীর ব্যথা, জ্বর ও তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এ ধরনের অবস্থায় ইন্ট্রারেক্টাল ফোড়া সন্দেহ করতে হয়।
🩻 ডায়াগনোসিস বা পরীক্ষা
এই ফোড়াটি সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য আধুনিক দুটি পরীক্ষা সবচেয়ে কার্যকর—
এমআরআই অব দি অ্যানাল ক্যানেল ও পেলভিস
ইন্ট্রারেক্টাল আলট্রাসনোগ্রাম
এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে ফোড়ার অবস্থান, গভীরতা ও সংক্রমণের পরিমাণ স্পষ্টভাবে জানা যায়।
✅ বিশেষ পরামর্শ
পায়ুপথে তীব্র ব্যথা ও জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
নিজে থেকে ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে পরীক্ষা করান
নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং চিকিৎসার পর নির্দেশনা মেনে চলুন
🩺 সংক্ষেপে:
➡️ পেরি-অ্যানাল অ্যাবসেস একটি সংক্রমণজনিত ফোড়া
➡️ চিকিৎসা হলো সার্জারির মাধ্যমে পুঁজ বের করা
➡️ অবহেলা করলে এটি ফিস্টুলায় পরিণত হতে পারে
➡️ সময়মতো সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসাই একমাত্র সমাধান
daliykalerbangladesh