ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শেরপুরে পানিফলের বাণিজ্যিক চাষে ফিরছে সচ্ছলতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

শেরপুর প্রতিনিধি :

একদা খাল-বিলজুড়ে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মাত পানিফল। এখন সেই পানিফল শেরপুরের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। অল্প শ্রম ও কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এই ফলের চাষ।

ফলটির নাম পানিফল হলেও তিনকোনা শিঙাড়া আকৃতি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে একে অনেকেই ‘শিঙাড়া’ নামেও ডাকেন। স্রোত কম, মাঝারি গভীরতা ও জলাবদ্ধ জমিতে এই ফল ভালো জন্মে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং ডায়াবেটিক রোগীদের উপকারী এই ফল এখন অনেক কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। অনেকেই মাছের ঘেরের পানিতেও পানিফলের চাষ করছেন, যা এনে দিয়েছে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা।

চাষিরা জানান, পানিফল গ্রামবাংলার অতি পরিচিত ফল। পানিফল গাছ কচুরিপানার মতো পানির ওপরে ভেসে থাকে। কচি অবস্থায় লাল, মধ্য পর্যায়ে সবুজ ও পরিপক্ব হলে কালো হয় এই ফল। খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় নরম সাদা বা লাল শাঁস, যা কাঁচা অবস্থায় খেতেই সুস্বাদু।

শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর, বামনের চর বিল, পাকুড়িয়া রৌহা ও গাওয়াৎ বিল, পৌর এলাকার আওড়াবাওড়া ও ঈশলি বিল, শ্রীবরদীর বৈশা বিল, খড়িয়া গাজির চর, কুড়িকাহনীয়া, গরজরিপা, নকলা উপজেলার পাঠাকাটা, চরঅষ্টধর, চন্দ্রকোনা, উরফা, গণপদ্দী, বানেশ্বরদী, নালিতাবাড়ীর নয়াবিল, রাজনগর, বরুডুবি, ঝিনাইগাতির মালিঝিকান্দা, আসামপাড়া, ধলিবিল, কালি নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিফলের প্রাকৃতিক ও বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে।

কৃষক সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাসে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার পানিফল বিক্রি করা যায়। তিন মাসের মাথায় ফলন শুরু হয় এবং পরবর্তী তিন মাস পর্যন্ত ফলন অব্যাহত থাকে। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে চারা রোপণ করে মাঘ-ফাল্গুন পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ পেলে এই চাষ আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে কৃষকদের মত।

চরশেরপুরের কৃষক জলিল মিয়া, সাবেদ আলী, পাকুড়িয়ার ফজলু ও আমেজ আলীসহ স্থানীয় অনেক কৃষক জানিয়েছেন, পানিফল চাষে তারা এখন লাভবান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “লাভজনক হওয়ায় পানিফলের চাষ বেড়েছে। যদিও জেলার মোট আবাদি জমির পরিমাণের তথ্য আমাদের কাছে নেই, তবে আগামীতে এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করব। পুষ্টিগুণে ভরা এই জলজ ফলটি এখন ক্রমেই মানুষের প্রিয় হয়ে উঠছে।”


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স