ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আজ মহান বিজয় দিবস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 16, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
বিশ্বমানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কুয়াশাঘেরা সেই সকালে পরাজয়ের গ্লানি মুছে দিয়ে বাংলার আকাশে উদিত হয়েছিল স্বাধীনতার সূর্য, উড়েছিল চিরগৌরবের লাল-সবুজ পতাকা। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল— “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।

আজ মহান বিজয় দিবস। জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এই দিনে শ্রদ্ধা, গৌরব ও আত্মত্যাগের স্মৃতিতে উদ্ভাসিত বাংলাদেশ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে যে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথচলা শুরু হয়েছে, তা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল ভাষা আন্দোলনের অবধারিত পরিণতি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে রক্ত দিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা, তার চূড়ান্ত রূপ নেয় একাত্তরের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে এ দেশের মানুষ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এই মুক্তিসংগ্রামে শহীদ হন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ, নির্যাতনের শিকার হন দুই লাখের বেশি মা-বোন। বিপুল ত্যাগ ও আত্মাহুতির বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

২৫ মার্চের গণহত্যা ও প্রতিরোধ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার মধ্য দিয়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। সেই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে প্রতিরোধের আহ্বান জানান। কোনো আধুনিক অস্ত্র বা সামরিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাংলার দামাল ছেলেরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের অবসান ঘটে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ে।

বিজয়ের পাঁচ দশক: কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

বিজয়ের অর্ধশতক পেরিয়ে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে—এই প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একাত্তরের জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয়তাবাদের পরীক্ষাও এখনো চলমান।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ১৯৭১ এই অঞ্চলের মুক্তির সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়। শ্রেণি, জাতি, ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হলে বুদ্ধিবৃত্তির মুক্তি ও জনগণের ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও শ্রদ্ধা নিবেদন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভোরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কদ্বীপ আলোকসজ্জায় সজ্জিত। রাজধানীসহ সারাদেশে মুক্তির গান, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে।

গৌরবের দিনে জাতির শপথ

আজকের দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে সেইসব শহীদকে, যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। মহান বিজয় দিবস শুধু অতীতের স্মরণ নয়—এটি গণতন্ত্র, মানবিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার নতুন শপথের দিন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স