ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জাতীয় নির্বাচনের আগে পরীক্ষার মঞ্চ ছাত্র সংসদ নির্বাচন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 30, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে যাচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এবার কোনো দলীয় সরকার ক্ষমতায় নেই। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথমবারের মতো এমন রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

বিভিন্ন মহলে এবারের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের পরীক্ষা হিসেবে। কেননা, দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চলমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ছাত্র সংসদের মতো নির্বাচন আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো কতটা সফল হতে পারে সে দিকে তাকিয়ে আছেন অনেকে।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠন প্যানেল দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রার্থী বাছাই হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোও জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে তরুণ-তরুণীদের মতিগতি বুঝতে চাইবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। 


আবার আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। ফলে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও তাদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, এই নির্বাচনে ভোটদানের পরিবেশ থেকে বোঝা যাবে জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে। তাই নির্বাচনে কোন কোন পক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে, নির্বাচনী পরিবেশ কেমন, ভোটারদের মনোভাব পর্যালোচনা করে দেখা যাক- এ থেকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কী কী পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।


কেন্দ্রে বিদ্রোহী, হলে প্রার্থী সংকট

ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। জাহাঙ্গীরনগরে ১১, রাজশাহীতে ২৮ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ১২ অক্টোবর। এরই মধ্যে ডাকসু ও জাকসুর জন্য বিএনপির ছাত্রদল, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ও বাম ধারার সংগঠনগুলো সমর্থিত প্যানেল দিয়েছে। রাকসু ও চাকসু নির্বাচন ঘিরেও প্রস্তুতি চলছে।


কেন্দ্রীয় সংসদের ক্ষেত্রে ছাত্রদল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংদের একাধিক নেতা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। ডাকসুতে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) প্যানেল থেকে বেরিয়ে এরই মধ্যে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে চারজনের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। সম্পাদকীয় পদেও এই সংগঠনের চারজন নেতা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন।


জাকসুতে ছাত্রদল প্যানেল ঘোষণা করেছে গত বৃহস্পতিবার। এরপর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য একজন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। বাগছাসে এজিএস পদের বিপরীতে দুজন বিদ্রোহী হয়েছেন।


হল সংসদের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে কোনো সংগঠনই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি। ছাত্রদল ১৪টিতে দিলেও ছাত্রশিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কোনো হলেই প্যানেল দেয়নি। শুক্রবার পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগরের ২১টি হলের সব পদে প্রার্থী দিতে পারেনি কোনো সংগঠন। কারণ হিসেবে, প্রার্থী সংকট ও হল রাজনীতিতে অনীহার কথা বলা হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল মেয়েদের হলে কোনো প্যানেল দিতে পারেনি।


নির্বাচনের পরিবেশ

নির্বাচনের দিন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে সম্প্রতি সেনাপ্রধান বরাবর ক্যাম্পাসে সেনা মোতায়েনের আবেদন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, ক্যাম্পাসের প্রবেশ পথগুলোতে সেনাবাহিনী ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে থাকবে। তবে বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ নেই। 


এদিকে প্রার্থীদের মধ্যেও ভোটের প্রক্রিয়া ও পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা আছে। গত বুধবার ভোটদানের প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ডাকসুতে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম। বলেন, একজন ভোটারকে মোট ৪১টি ভোট দিতে হবে। প্রতিটি ভোট দিতে ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগবে। এ অবস্থায় অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক ভোটার কীভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন?


একইদিন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা এক সংবাদ সম্মেলনে শঙ্কা প্রকাশ করেন, ভোটের ফল ঘোষণায় দেরি করা যাবে না। দেরি হলে একটি পক্ষ ফলাফল পরিবর্তন করতে পারে।


জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ঘিরেও নানা চ্যালেঞ্জের কথা বলা হচ্ছে। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে খোদ নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে ত্রয়োদশ নির্বাচন হবে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভালো নির্বাচন করতে হবে। এর বিকল্প নেই।


এআইয়ের নতুন চ্যালেঞ্জ

বিগত নির্বাচনগুলোতে প্রচার-প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীদের নানা দুর্বলতা নিয়ে বক্তব্য দিতেন প্রার্থীরা। পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনাও ঘটে। ২০২৫ সালে এসে নির্বাচন ঘিরে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার। নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের অনেকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। বট আইডি দিয়ে বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ থেকে ছাত্রীদের টার্গেট করে বুলিং, স্লাট শেমিং করার অভিযোগ এসেছে গণমাধ্যমে। রেহাই পাচ্ছেন না ছাত্ররাও। ব্যক্তিগত সম্মানহানির ভয়ে অনেক ছাত্রী ইচ্ছা থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জেইউ আপডেট, জাবিয়ান সুশীল সমাজ, জেইউ ইনসাইডার্স, জাকসু নিউজ, জাবির সকল সংবাদ, জেইউ সার্কাজম, জেইউ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনসহ ১০টি পেজ ও গ্রুপ থেকে নির্বাচন ঘিরে বট অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কয়েকজন বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। প্রার্থী হিসেবে কোনো ছাত্রীর নাম আলোচনায় এলেই সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্মানহানির ভয়ে অনেকেই আগ্রহ হারাচ্ছেন। ছাত্র সংসদেই এমন হলে, জাতীয় নির্বাচনে কী হবে তা নিয়ে শঙ্কিত তারা।


একইরকম পরিস্থিতির শঙ্কা করা হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন ঘিরেও। গত ১৩ আগস্ট সমকালে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি লিখেন, ইসির নিজস্ব কোনো নির্বাচনী সাইবার সিকিউরিটি সেল, শাখা বা ইউনিট নেই। অপতথ্য রোধে ফ্যাক্ট চেকিং ও মনিটরিং সেলের দরকার হতে পারে।


চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছিলেন, এআইয়ের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিহতের বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


কিন্তু নির্বাচনী আচরণবিধি শুধু প্রার্থী এবং দলের জন্য। সেক্ষেত্রে তাদের হয়ে অন্য কেউ এআইয়ের অপব্যহার করতে পারে। এর ব্যাখ্যায় মো. সানাউল্লাহ বলেছিলেন, এটা দেশের ভেতর থেকে করবে, বাইরে থেকেও করবে। এগুলো প্রতিহতের জন্য একটা কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।


আছে সংঘাত, ব্যালট চুরির ঘটনাও

বিভিন্ন সময়ে ও সরকারের আমলে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা। আছে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনাও। ছাত্র সংসদ নির্বাচনও এমন ঘটনার সাক্ষী।


মহিউদ্দিন আহমদের বই ‘জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি’ এর ১০৫ পৃষ্ঠায় স্বাধীনতার পর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে লেখা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মুজিববাদী ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন যৌথভাবে নির্বাচন করে। বিপরীতে ছিল জাসদ ছাত্রলীগ। সন্ধ্যায় ভোট গণনার সময় দেখা যায় জাসদ ছাত্রলীগের মাহবুব-জহির পরিষদ (আ ফ ম মাহবুবুল হক ও জহুরুল ইসলাম) বিপুল ভোটে এগিয়ে। হলগুলোর অবস্থাও একই রকম। রাত আটটার দিকে মুজিববাদী ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেলের প্রার্থী নূহ-উল-আলম লেনিন ও ইসমত কাদির গামার সমর্থকেরা ভোট গণনার কেন্দ্রগুলোতে হামলা করে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যায়।


এমন ঘটনার রেশ গড়িয়েছিল প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও। বইয়ে (পৃষ্ঠা-১০৬) লেখা হয়েছে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন জিতে যাবে, এটা মেনে নেওয়ার মতো উদারতা আওয়ামী লীগ সরকারের ছিল না। জাসদ থেকে অভিযোগ করা হয়, সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন উপাচার্য মুজাফফর আহমদ চৌধুরীর কাছে অভিযোগ জানালে তিনি কোনো ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি একজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে সরকারে যোগ দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।


ডাকসুতে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা হয় ১৯৮০ সালেও। ১৭ নভেম্বর হওয়া নির্বাচন সম্পর্কে ইত্তেফাক-এর খবরে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটের আগের দিন ১৬ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারের সময় স্লোগান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রশিবির। সায়েন্স অ্যানেক্স ভবনের সামনের ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।


১৯৮২ সালে নির্বাচন হয় ২৩ জানুয়ারি। সে বছরের নির্বাচন শুরু হয় গোলাগুলি, বিস্ফোরণ আর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশ অবজারভারের খবরে বলা হয়, আগের রাতে স্যার এ এফ রহমান হলের সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়া একটি মিছিলে হলের ভেতর থেকে দুটি গ্রেনেড ছোড়া হয়। আহত হন ২৪ জন। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাস জুড়ে পুলিশি পাহারা বসে। ২২ জানুয়ারি রাতেও কলাভবনের আশপাশের এলাকায় সাতটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়।


১৯৮৯ সালে নির্বাচন হয় ৮ ফেব্রুয়ারি। ওই নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত হন জাসদ ছাত্রলীগ কর্মী কফিল উদ্দিন। ১০ ফেব্রুয়ারি অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বিজয় মিছিল বের করে। মিছিলটি মধুর ক্যানটিনের সামনে গেলে শুরু হয় গুলি। ওই গুলিতে নিহত হন কফিল। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইত্তেফাক ১০ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে লিখে, ফলাফল কারচুপির অভিযোগ এনে ক্যাম্পাসে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রদল। এই ঘটনা নিয়ে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের আগে লেখকের সঙ্গে কথা হয়েছিল খায়রুল কবির খোকনের। তিনি ’৮৯ সালের ওই নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলের এজিএস প্রার্থী ছিলেন। খায়রুল কবির বলেছিলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ছাত্রদলের নাম জড়ানো হয়েছিল।       


আগের নির্বাচনে ফল যেমন ছিল

২০১৯ সালের আগে ডাকসু নির্বাচনে বিরতি ছিল প্রায় ২৮ বছর। জাকসু, রাকসু ও চাকসুতেও এবার বহু বছর পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বরাবরই হেরেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনগুলো। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমলে প্রথম ডাকসু নির্বাচনে (১৯৭২ সালের ২০ মে) হেরে যায় ছাত্রলীগ। ১৯৭৯, ’৮০ ও ’৮২ সালে বিএনপির আমলে হওয়া তিনটি নির্বাচনে হারে ছাত্রদল। সবশেষ ২০১৯ সালের নির্বাচনের ২৫ পদের মধ্যে ২৩টিতে জিতলেও সহসভাপতির (ভিপি) পদ হারায় ছাত্রলীগ। এ পদে জয়ী হন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নূর। নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নেই ছাত্রলীগ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স