ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে আনার চাষে সাফল্য, বিদেশি ফলেই লাখ টাকার সম্ভাবনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 4, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যুগিহুদা গ্রামে আনার বাগান গড়ে তুলে সফলতার মুখ দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা আব্দুল্লাহ। বিদেশি জাতের আনার চাষ করে তিনি কেবল আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন না, স্থানীয়দের মধ্যেও জাগিয়েছেন নতুন উদ্যম।

২০২১ সালে ইউটিউব ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ভারতীয় ভাগওয়া জাতের ৯১টি চারা সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন আব্দুল্লাহ। গাছ লাগানোর দুই বছর পর থেকেই ফুল আসা শুরু হয়।

বর্তমানে পুরো বাগান ফলনে ভরে গেছে। একেকটি গাছে ৩০ থেকে ৮০টি আনার ধরেছে। ঝলমলে লালচে-সবুজ আভা ছড়ানো ফলগুলো যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা রঙিন তুলির আঁচড়ের মতো।

বাগান দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। দর্শনার্থী ও কলেজছাত্র আশিকুর রহমান জানান, ‘ফেসবুকে ছবি দেখে এসেছি। সত্যিই চোখধাঁধানো দৃশ্য। মনে হয় যেন কাশ্মীরের কোনো বাগান।’

স্থানীয় কৃষক আজিজুল হক বলেন, ‘শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এই মাটিতে আনার হবে না। কিন্তু এখন দেখছি ফলনে গাছ ভরে গেছে। দেখে মনটা ভরে যায়।’

উদ্যোক্তা সোহেল রানা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘প্রথমে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিল। তবে আমি হাল ছাড়িনি। স্থানীয় বাজারে আনারের চাহিদা ভালো থাকায় আশা করছি চলতি মৌসুমেই দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারব। ভবিষ্যতে আরও জমি নিয়ে আনার চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘আনার বাংলাদেশের আবহাওয়ায় একটি নতুন সম্ভাবনা। আমরা উদ্যোক্তাদের পাশে আছি। আব্দুল্লাহর সফলতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’

আব্দুল্লাহর সাফল্যে গ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়। প্রথমদিকে সমালোচকরাও এখন উৎসাহ পাচ্ছেন আনার চাষে। ফলে ঝিনাইদহের কৃষি খাতের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে এই উদ্যোগ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স