যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার অব্যবহৃত তেলকূপ ব্যবহার করে নতুন সমাধানের পথ খুঁজছেন গবেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে এসব কূপ থেকে তেল-গ্যাস তোলার পর পরিত্যক্ত হওয়ায় এখন সেগুলোতে কার্বন জমা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কৃষি ও বনজ বর্জ্য থেকে তৈরি বায়ো-অয়েল মাটির নিচে পাঠিয়ে কার্বনকে দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখার এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।
প্রক্রিয়াটির নাম ফাস্ট পাইরোলাইসিস। এতে ভুট্টার খড় বা গাছের শুকনো ডাল অক্সিজেন ছাড়া উচ্চ তাপে গরম করা হয়। এতে উৎপন্ন হয় বায়ো-অয়েল, বায়োচার ও গ্যাস। এর মধ্যে বায়ো-অয়েল কূপে পাম্প করে জমা রাখা যায়, বায়োচার কৃষকেরা মাটির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করতে পারেন আর গ্যাস কাজে লাগে জ্বালানি হিসেবে।
গবেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি বড় কোনো স্থায়ী কারখানা ছাড়াই ছোট মোবাইল ইউনিট আকারে শুরু করা সম্ভব। এভাবে প্রতি দিন প্রায় ১০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা যাবে। হিসাব অনুযায়ী, এক টন কার্বন জমা রাখতে গড়ে খরচ হবে ১৫২ ডলার, আর কাঠজাত বর্জ্যের ক্ষেত্রে তা কমে দাঁড়াবে ১০০ ডলারের আশপাশে। একটি পরিত্যক্ত তেলকূপে দুই লাখের বেশি গ্যালন তরল কার্বন জমা রাখা সম্ভব। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই লাখো পরিত্যক্ত তেলকূপ যেগুলো সঠিকভাবে বন্ধ না করায় পরিবেশ ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে। ২০২১ সালের সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হলেও গবেষকদের অনুমান, এমন কূপের প্রকৃত সংখ্যা ৮ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক স্টার্টআপ ‘চার্ম ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ ইতোমধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। এমনকি কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে কার্বন ক্রেডিটের জন্য চুক্তিও করেছে তারা। তাদের দাবি, খরচ ও মানের দিক থেকে বায়ো-অয়েল ইনজেকশন কার্বন অপসারণের অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাতেই নয় বরং কৃষক, বন ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ‘এনার্জি কনভার্সন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ জার্নাল।
daliykalerbangladesh