ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছিল বিস্তর। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভোট শুরুর দিকে প্রার্থীরা নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে আসতে থাকে প্রার্থীদের অভিযোগ। অনেক প্রার্থী জানান ক্ষোভ।
সকালে প্রথমে ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটারদের লিফলেট ও স্লিপ বিতরণের অভিযোগ তোলেন। যদিও ছাত্রদল এই অভিযোগ অস্বীকার করে। দুপুরের পর মূলত এ দুই প্যানেলের প্রার্থীরা একে অপরের দিকে অভিযোগের তীর ছোড়ে। এমনকি তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল– প্রার্থীর নামের পাশে ‘ক্রস চিহ্ন’ দেওয়া ব্যালট ভোটারের হাতে তুলে দেওয়া। এ অভিযোগে একজন পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে বলা হয়, ‘নির্বাচন চলাকালে কার্জন হলের দ্বিতীয়তলায় অমর একুশে হল কেন্দ্রে এক শিক্ষার্থীকে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়ার ঘটনায় পোলিং অফিসার জিয়াউর রহমানকে তাৎক্ষণিক নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যে ভুল করে হয়েছে, তা অভিযোগকারী ভোটারও বুঝতে পারেন। তার পরও ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করে।’
টিএসসি কেন্দ্রেও একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ আসে। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক প্রার্থী রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আমার বান্ধবী ব্যালট হাতে পেয়ে দেখতে পান তাতে আগেই ‘ক্রস চিহ্ন’ দেওয়া ছিল।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. নাসরিন সুলতানা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সব ব্যালট পেপার পরীক্ষা করেছি। কোথাও এমন সমস্যা পাইনি। অভিযোগকারী ব্যালট হাতে পেয়েই তা বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি বুথে গিয়ে কিছুক্ষণ থেকে ফিরে এসে অভিযোগ তুলেছেন। এমন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তবু অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে একটি নতুন ব্যালট দেওয়া হয়েছে। এদিকে, একই অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী তাহমিনা আক্তার।
ভোট কারচুপির অভিযোগ
ছাত্রদলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, আমি সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। কোনো অভিযোগ না করতে আমরা চেষ্টা করেছি। আমি চিফ রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে রোকেয়া হলের কেন্দ্রে প্রবেশ করেছি। একজন শিক্ষার্থী ব্যালট নিয়ে কেন্দ্রের বুথে প্রবেশ দেখতে পায়– সাদিক কায়েম ও ফরহাদের ব্যালটে আগে থেকেই ‘ক্রস চিহ্ন’ দেওয়া আছে। এ বিষয়ে আমি নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও একই অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ভোট কারচুপির প্রমাণ লুকাতে সিসিটিভির ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রশিবির প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, অমর একুশে হলে এক কর্মকর্তা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে বাক্স ভর্তি করেছেন। ধরার পর তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ছবি আর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। পরে এটি চাপা দিতে টিএসসিতে একটা মেয়ে দিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। এক শিক্ষার্থী বুথের ভেতর থেকে এক মিনিট পর বের হয়ে বলছে, সেখানে নাকি সাদিক কায়েম বা অন্যদের আগে থেকে ভোট দেওয়া ছিল।
বিকেলে টিএসসি কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়। এ সময় শুধু যারা ভোট দেননি, তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রে প্রার্থী কিংবা গণমাধ্যমকর্মীকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাদিক কায়েম কেন্দ্রে দলবলসহ ঢুকলেও বাধা দেওয়া হয়নি। এর পর স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ছাত্র পরিবহন সম্পাদক রাফিজ খান ঢুকতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের জিএস প্রার্থী আল সাদী ভূঁইয়া, রাফিজ খানসহ অন্য প্রার্থীদের তোপের মুখে পড়েন সহকারী প্রক্টর এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী।
daliykalerbangladesh