ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৫২ ঘণ্টা পর উপাচার্যের আশ্বাসে এ আমরণ অনশন ভেঙেছেন আন্দোলনকারীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 13, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছিলেন ৯ শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ৫২ ঘণ্টা পর উপাচার্যের আশ্বাসে এ আমরণ অনশন ভেঙেছেন আন্দোলনকারীরা।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার জুস পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানসহ অন্য শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য উপাচার্যকে বললে রবিবার আন্তরিকতার সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের দেখতে যান তিনি।

অনশন ভাঙার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিক বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষার্থী ও শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির বলেন, ভিসি স্যার জানিয়েছেন, আমাদের দাবিগুলো সঠিক এবং তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবেন। রবিবার বিকাল ৩টায় তিনি আমাদের সঙ্গে বসবেন এবং কথা দিয়েছেন কাজ করবেন।

অনশন থেকে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর দফতর সম্পাদক নাঈম শাহ্ জান বলেন, উপাচার্য আমাদের এখানে এসেছিলেন এবং আমাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং আমাদের কথা দিয়েছেন আগামী রবিবার আমাদেরকে নিয়ে বসবেন। তিনি আমাদের সবগুলো দাবি নিয়ে কাজ করছেন। আমাদের যে মূল দাবি প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ তিনি এটা নিয়েও কাজ করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। ওনার সম্মতির জায়গা থেকে আমরা অনশন সমাপ্ত করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, আমরা রবিবার বিকাল ৩টার সময় ছাত্রদেরকে সময় দিয়েছি। তারা তাদের দাবিগুলো আমাদের কাছে দিয়েছে। আমি প্রাথমিকভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। রবিবার এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

এর আগে, গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এ অনশন শুরু করেন তারা। পরে অনশনের ৩৫ ঘণ্টা পর ৯ জনের মধ্যে ছয় জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে তিন জনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন- বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, মিউজিক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের শাখা সংগঠক ঈশা দে, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষার্থীরা ও শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর রাজনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ একই বর্ষ ও বিভাগের শিক্ষার্থী শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর দফতর সম্পাদক নাঈম শাহ্ জান, মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষার্থী ও শাখা নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার, মিউজিক বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষার্থী ও শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষার্থী ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া।


নিউজটি আপডেট করেছেন : daliykalerbangladesh

কমেন্ট বক্স